Header Ads

The Truth Behind Entrepreneurship and How Our Society Deals With Sex

Who is the "Customer"?

প্রশ্ন দিয়েই আজকের ব্লগটা শুরু করার ইচ্ছা হলো। অবশ্যই প্রশ্নের পিছনে একটা কারণ আছে।পুরো লেখাটা পড়তে পড়তে প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই পেয়ে যাবেন আশা করি।


একটা গল্প বলা যাক, বর্তমানে যুগে অধিকাংশ মানুষই চায় উদ্যোক্তা হতে, খুব কম মানুষই আছে বর্তমানে চাকরি করে সারাজীবন কাটাতে চায়। জীবনের সে দৌড়ে কেও খুব সহজেই সফল হয়ে যায় আবার কেও শত চেষ্টার পর সফল হয় বা হয়না। তেমনি একজন উদ্যোক্তা রঘু, এ পর্যন্ত প্রায় ডজন খানেক আইডিয়া নিয়ে ব্যাবসা শুরু করেছে কিন্তু অসফল, তবুও হাল ছাড়েনি। ভাগ্যের লীলাখেলায় একসময় তাকে পাড়ি জমাতে হয় চাইনা তে। সেখানেই ভাগ্যক্রমে পরিচয় হয় এক বিজনেস টাইকুন এর সাথে। এরপর থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে রঘুর। পেয়ে যায় সফলতার চাবি, তারপর নিজ দেশে ফিরে অনেক পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করে তার নতুন বিজনেস। অনেক সাধনার পর পেয়ে যায় তার সফলতার দৌড়ের সাথী। এরপর দুজনে মিলে শুরু করে নতুন এক রচনা। 
গল্পটা খুব সহজ আর সাধারণ তাইনা?

২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া বলিউড সিনেমা "Made In China" যারা দেখেছেন তারা হয়তো কাহিনিটা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। সিনেমাটির মুখ্য চরিত্রে ছিলেন রাজকুমার রাও এবং বোমান ইরানি। রাজকুমার রাও বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। বলা হয়ে থাকে তার স্ক্রিপ্ট বাছাই অনেক ভালো৷ তার প্রতিটা সিনেমাতেই কিছু না কিছু সামাজিক সচেতন বার্তা থাকে। তেমন এই সিনেমাতেও রয়েছে। মাইন্ড রিল্যাক্স এবং রিফ্রেশমেন্টের জন্য মাঝেমধ্যেই খুব সাধারণ গল্পের বলিউড সিনেমা দেখতে ভালো লাগে। এই সিনেমার গল্পটা যেমন সাধারণ ঠিক তেমনই এতে রয়েছে প্রচুর মেটাফোর। দর্শক হিসেবে যখন সিনেমাটি দেখবেন তখন আপনি সেই মেটাফোরগুলো খুজতে থাকবেন। এই সিনেমার গল্পটিই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তাই প্রকৃত অর্থে আজকের লেখাটা কোন মুভি রিভিউ বলা চলেনা। গল্পের এদিক সেদিক নিয়েই আলোচনা করবো। গল্পের সারমর্ম তো আপনাদের আগেই শুনিয়েছি। এবার এই গল্পের মধ্যে লুকানো সামাজিক বার্তাটা নিয়ে কথা বলা যাক।
(স্পয়লার এলার্টঃ যারা এখনও সিনেমাটি দেখেননি, তাদের জন্য পরেরটুকু না পড়াই শ্রেয়। হয়তো গল্পের টুইস্ট জেনে গেলে সিনেমা দেখার আসল মজা হারিয়ে ফেলতে পারেন।)



"Sex" তিন বর্ণের এই শব্দের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। Noun হিসেবে এর অর্থ দাড়ায় "লিঙ্গ"। একটি খুব পরিচিত কথা আছে -
"Sex is what is between our legs and Gender is what is between our ears." 
কিন্তু Verb হিসেবে এর অর্থ সম্পুর্ণই আলাদা। কমবেশি আমরা সবাই তা জানি বা বুঝি। এই তিনটা বর্ণ S, E, X বা Sex শব্দটাকে নিয়ে আমাদের সমাজের খুব বড় সমস্যা। আমরা স্কুলে বা কলেজে পড়ার সময় ব্যাঙের প্রজননতন্ত্র, মাছের প্রজননতন্ত্র বা তেলাপোকার সবকিছুই পড়তে পারি কিন্তু যখনই মানব প্রজননতন্ত্রের অধ্যায় আসে তখনই তা এড়িয়ে যাওয়া হয় বা বলা হয় তোমরা নিজেরাই তা পড়তে পারবে। কেন? আমরা অন্যান্য প্রানীরটা যদি পড়তে পারি, জানতে পারি তাহলে নিজেদেরটা জানতে সমস্যা কোথায়? হিউম্যান এনাটমি সম্পর্কে আমাদের শিক্ষকরা জ্ঞান না দিলে কি তাহলে জ্ঞান আমরা গুগল থেকে লাভ করবো? আমাদের সমাজের সমস্যাটা কোথায়? লজ্জা নাকি চিন্তাভাবনা?
ঠিক এই এড়িয়ে যাওয়ার কারনেই কিশোর-কিশোরীদের মাঝে একধরনের কৌতূহল গড়ে উঠে যা তাদের অনেক খারাপ দিকে ধাবিত করে। শুধু কিশোর-কিশোরিরা না, যারা প্রাপ্তবয়স্ক তাদের মধ্যেও এই বিষয়টা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা যায়। এই জিনিসটাকে আমরা সাধারণভাবে নিতেই পারিনা। সেক্স মানেই অশ্লীল আমাদের সমাজের কাছে। আপনার হার্টের রোগ, কিডনির রোগ, ফ্র‍্যাকচার বা অন্য যেকোনো রোগ হলে সবার কাছে খুব সহজে বলতে পারেন কিন্তু সেক্সচুয়াল ডিজিজ বা যৌনরোগের ক্ষেত্রে সেটা আর নরমাল থাকেনা। এমনকি সেক্সোলজিস্ট বা যৌনরোগের ডাক্তারদেরকেও সমাজের অনেকেই হেয় চোখে দেখে। এর একমাত্র কারণ আমাদের চিন্তাভাবনা। আমাদের চিন্তাভাবনায় সমস্যা। 
"This is normal" এই সাধারণ কথাটা আমরা মেনে নিতে রাজিনা বা পারিনা। কিন্তু আমাদের দেশের বা পৃথিবীর জনসংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। যে কারণে আমাদের জন্ম ঠিক সেই কারণটাকেই আমরা অশ্লীল হিসেবে মেনে নিচ্ছি। কি হাস্যকর ব্যাপার তাইনা? আমাদের সমাজের অবস্থাটা ঠিক এমন যে-
"লজ্জায় মুখ খুলতে পারেনা কিন্তু রাতের অন্ধকারে প্যান্ট খুলতে পারে"
"Made in China" সিনেমার মূল সামাজিক বার্তা ঠিক এটাই ছিল। যেখানে দেখানো হয়েছে রাজকুমার রাও, একজন উদ্যোক্তা, যার ব্যাবসায়িক পার্টনার ছিল একজন সেক্সোলজিস্ট যাকে সাথে নিয়েই শুরু হয় তার ব্যাবসা। ব্যাবসাটি ছিল যৌনরোগের ঔষধ নিয়ে। ঔষধের নাম ছিল "ম্যাজিক স্যুপ"। কিন্তু যেটা বাস্তব সেটা হচ্ছে এটা কোন ঔষধই না। আপনি ভেবে নিচ্ছেন ঔষধ খাচ্ছেন, যার ফলে সাইকোলজিকালি আপনি মেনে নিচ্ছেন আপনি সুস্থ হবেনই এবং মেন্টালি স্যাটিসফাই হচ্ছেন। কিন্তু আসলে আপনি কোন ঔষধই খাচ্ছেন না। এটাকে ফার্মাকোলজি টার্মে বলা হয় "প্লাসেবো" বা "নকল ঔষধ"। এটা জনগণের কাছে বিক্রি করেই তিনি সফল ব্যাবসায়ী হয়ে যান।




এবার আসি এই সিনেমার আরেকটা দিক নিয়ে যেটা ছিল "Entrepreneurship বা উদ্যোক্তা বিষয়" নিয়ে। অধিকাংশই চায় উদ্যোক্তা হতে কিন্তু সফল উদ্যোক্তা হওয়ার চাবিকাঠি অনেকেই খুজে পায়না। সিনেমাটির মধ্যে এর রহস্য প্রায় উদঘাটন করেছে। প্রথমেই প্রশ্ন করেছিলাম- "Who is the "Customer"? The answer is customers are nothing but fool. Entrepreneurs think that customers are king or God to them but they are not. They have problems and all you just need to find the solution of the problems and sell the solution smartly. To me this is the basic concept of e entrepreneurship."

One of the famous dialogue of movie is - 
"-Customer kaun hain? 
-Customer ******* hain".
এই সিনেমাটিতেই এর প্রমাণ দেখানো হয়েছে। আপনি জানতেছেন যে এটা আপনার যৌনরোগের ঔষধ কিন্তু আসলে এটা একটা ইন্ডিয়ান মিষ্টি জাতীয় খাদ্য। কিন্তু তারপরেও এই ঔষধ নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে "এটা ঔষধ না হয়েও এর কার্যকারিতা কিভাবে প্রমাণ পেল?"


এর খুব সুন্দর সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা রয়েছে। একবার এক ডাক্তারের কাছে একজন রোগী আসে যার মাথা ব্যাথা ছিল। আসলে এটা তেমন কোন রোগ ছিলনা তার। নিউরোবায়োলজিকাল রোগ বলা যায়। তাই ডাক্তার তাকে মাথা ব্যাথার ঔষধ বলে প্লাসেবো দিয়েছিল যা আসলে চিনি দিয়ে তৈরী নকল ঔষধ, যার কোন ঔষধীয় গুণাবলি নেই। রোগী বিশ্বাস করে নিয়েছিল যে সত্যিই ঔষধ খেয়েছে তাই তার মাথা ব্যাথাও চলে গিয়েছিল। এখান থেকেই প্লাসেবোর ধারণা পাওয়া যায়। অনেক বিজ্ঞানী এই প্লাসেবো নিয়ে গবেষণা করে ফলাফল পেয়েছে যে প্লাসেবো আসলেই কাজ করে কিন্তু শুধুমাত্র নিউরোবায়োলজিকাল বা সাইকোলজিকাল কিছু ইস্যুর ক্ষেত্রে। যদি সহজ ভাষায় বলি তাহলে বিষয়টা এমন যে আমাদের সাবকনসাশ মাইন্ড যদি কোন বিষয়টাকে সত্যি বলে ধরে নেয় তাহলে সেই বিষয়টার ফলাফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্যি হয়। ঠিক সেক্স এর ক্ষেত্রেও, গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সেক্স বিষয়টা ৭০% আমাদের মেন্টাল হেলথ বা সাইকোলজির উপরে নির্ভর করে। অধিকাংশ মানুষের অতিরিক্ত স্ট্রেস নিয়ে থাকার ফলেই স্বাভাবিক জীবনযাপন ও যৌনজীবনে ব্যাঘাত ঘটে। আপনি যখন স্ট্রেস ফ্রি এবং সাইকোলজিকালি যখন বিশ্বাস করছেন আপনি ঔষধ খাচ্ছেন তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার ফলাফল অবশ্যই কার্যকর হবে। এখানেও বিষয়টা তাই ঘটেছে।


পরিশেষে এটাই বলতে চাই যে, সেক্স বিষয়টাকে গোপন করে বা অশ্লীল বলে বিষয়টাকে আরো জটিল না করে এর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আমরা নেই এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে না ঠেলে দিয়ে তাদের সঠিক জ্ঞান দান করি যেন তারা সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই সমাজ সুন্দর হবে।

No comments

Powered by Blogger.